সপ্তাহের শুরুর দিনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে ব্যারেলে ৩-৫ ডলার

ইরানে গতকাল সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ইরানে গতকাল সামরিক হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার নতুন এ মাত্রার প্রভাবে সপ্তাহের শুরুর দিনে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়তে পারে ব্যারেলপ্রতি ৩-৫ ডলার। বাজার বিশ্লেষকদের বরাত দিয়ে গতকাল এক প্রতিবেদনে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছে। এছাড়া ইরান পাল্টা হামলা চালালে দাম আরো দ্রুত ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে বলেও উল্লেখ করেছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তিনি ইরানের প্রধান পরমাণু স্থাপনাগুলো ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করেছেন। ইসরায়েলও হামলায় যুক্ত হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। উল্লেখ্য, ইরান ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তৃতীয় বৃহত্তম জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশ।

আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্ট গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিন শুক্রবার ব্যারেলে ৭৭ ডলার ১ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছে। এ সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ডব্লিউটিআইয়ের দাম ছিল ব্যারেলে ৭৩ ডলার ৮৪ সেন্ট। সুইডেনভিত্তিক বহুজাতিক ব্যাংক ও আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান এসইবি ব্যাংকের বিশ্লেষক ওলে হভালবাই বলেন, ‘‌কেনাবেচার শুরুর দিনে বিশ্ববাজারে বেন্টের দাম ব্যারেলপ্রতি ৩-৫ ডলার বাড়তে পারে।’

রাইস্ট্যাড কোম্পানির ভূরাজনৈতিক বিশ্লেষক ও সাবেক ওপেক কর্মকর্তা হোর্হে লিওন বলেন, ‘ইরান তাৎক্ষণিক পাল্টা হামলা না চালালেও ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিতে আজ জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।’

গত ১৩ জুন শুরু হওয়া সংঘাতে ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের কারণে ব্রেন্টের দাম প্রায় ১১ ও ডব্লিউটিআইয়ের ১০ শতাংশ বেড়েছে।

ইউবিএস বিশ্লেষক জিওভান্নি স্তাউনোভো বলেন, ‘এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের সরবরাহ স্থিতিশীল আছে। এছাড়া ওপেকভুক্ত অন্যান্য দেশের অতিরিক্ত উত্তোলন সক্ষমতা থাকায় দামও নিয়ন্ত্রণে আছে। তবে সরবরাহ বিঘ্ন ঘটলে পণ্যটির দাম উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে পারে।’

১৯ জুন এক ইরানি পার্লামেন্ট সদস্য জানান, ইরান প্রয়োজনে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিতে পারে। তবে আরেক সংসদ সদস্য বলেছেন, ইরানের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ হুমকির মুখে পড়লেই কেবল এ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর আগেও ইরান এ প্রণালি ব্যবহার করে পরিবহন বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশ হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে পরিবহন করা হয়।

এসইবি আরো জানিয়েছে, এ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেলে বা সংঘাত যদি অন্যান্য জ্বালানি তেল উত্তোলনকারী দেশগুলোয় ছড়িয়ে পড়ে, তাহালে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাবে।

তবে আইসিআইএসের অয়েল অ্যান্ড অ্যানালিটিকস ট্রানজিশন ডিরেক্টর অজয় পারমার বলেন, ‘‌ইরানের পক্ষে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ রাখা সম্ভব নয়। কারণ অধিকাংশ সময় এ পথ ব্যবহার করে চীনে জ্বালানি তেল রফতানি করে ইরান।’

আরও